Arundhati Das's Diary

অরুন্ধতী দাস এর লিখিত শ্রীশ্রী স্বামী শিবানন্দ লীলামৃত :

*গুরুকৃপা প্রসাদ বিতরণ -
অক্টোবর 2021* ….
🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️🕉️

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

প্রণাম বাবা। হরে কৃষ্ণ। বাবার শ্রীমুখের কথা শ্রবণ অমৃত আহরণ - প্রসঙ্গ চিন্তন, মনে মনে অনুরণন।

5/10/2021 - বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ বিকেলে সল্ট লেকে, কোন কথা হয়নি। বাবা অন্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, হাসিমুখে দুবার আমার দিকে তাকালেন। প্রণাম করে বাড়ি চলে আসি। চম্পাদি, কস্তুরীদি, সঞ্চিতাদি, কুঞ্জদা, অরুনদা - নানা আলোচনা হলো নবদ্বীপে কিভাবে যাওয়া যায় দানের উৎসবে। খুবই উত্তেজনা নিয়ে বাড়ি ফিরি।

7/10/2021 - নাকতলায় সুব্রতদার বাড়ি শিবালয় এ গেলাম। প্রসাদ পেলাম, কথা হলো।

ঋষি সঙ্গে ছিল, প্রণাম করে মেজদির মেডিকেল রিপোর্টগুলো প্রেসক্রিপশন সহযোগে বাবাকে দেখালাম, একটাই উদ্দেশ্য ঐ স্পর্শে যেন দিদি মহাপুরুষ এর আশীর্বাদ পায় ও সুস্থ হয়ে ওঠে। বাবাকে সব জানাতে পেরে আমিও শান্ত হই এবং দিদির জন্য একটা বই সংগ্রহ করি। সুব্রতদা, সাথী সব শুনে অবাক, দিদির হিমোগ্লোবিন এত কমে যাওয়া সত্ত্বেও বেঁচে আছে শুধুমাত্র গুরুর কৃপায়।

বাবার কিছু কথা --

১) নার্সিং হোম থেকে বাঁচতে চাইলে বইটিকে (অসীমদা কর্তৃক সংকলিত বইটি দেখিয়ে) follow করতেই হবে। কিছু কিছু জিনিস আছে এই বইটা আত্মস্থ কর।

২) জপ করতেই হবে। খাবার দাবার সীমিত কর। সামনে আছে, খেতে ইচ্ছে করছে বলে খেয়ে নিলাম - সেটা কোন কাজের কথা নয়।

৩) আমি তো ভিখারীর সন্তান, জ্ঞান অবধি একাদশী করি। শুনলাম বাবা নাকি কদিন ধরে সবাইকে একাদশী মাহাত্ম্য বলছেন।

"এত যে সকলের শরীর অসুস্থ রোগ, বিপদ, একাদশীর দিন অন্ন গ্রহণ করে কেন? সব পাপ যে ঐদিন অন্নে প্রবেশ করে, সেই অন্ন খেলে তো রোগ হবেই।" "আমি প্রতি মাসে দুটো একাদশী করি, অষ্টমী, পূর্ণিমার অমাবস্যায় উপবাস করি " বলেন বাবা। "সাবু খাও, আলু খাও, বাদাম, ফল খাও" সুস্থ থাকতে হবে।

বাবা - "আমারও তো ইদানিং জ্বর আসছে, কথা বেরোচ্ছে না গলা দিয়ে, কাশি হচ্ছে, কৈ আমি তো দুশ্চিন্তা করি না, বিচলিত হই না। শরীর আছে তাই এ সব হবেই, ওসব নিয়ে ভাবতে হয় না" ।

"সকালে উঠে প্রথম কাজ জপ, একনিষ্ঠ ভাবে জপ। যে main তিনটি মন্ত্র, ওটা খুব repeat করো বিশেষ যত্ন নিয়ে"। বাবা এক ভক্তের প্রশ্নের উত্তর দিলেন "জপের সময় ঠোঁট জিহ্বা নড়লেই তো ভালো। জিভ তো নড়াই উচিত" ।

বাবাকে হাসিমুখে দেখলাম মন ভরে গেল। গলার স্বর তেমনি নীচু, বড় আস্তে যেন শুনতে পেলেও অস্পষ্ট। মনের আকুতি নিয়ে গেছি, মনের মধ্যে তোমার ছবি বাঁধিয়ে নিতে।

অরুণদা, চম্পাদি আমি বললাম বাবাকে কিভাবে নবদ্বীপে যাব, গাড়ীতে পুজোর সময় অনেক বেশি চাইছে। বাবা বললেন, ট্রেনে করে যাও। শেষ পর্যন্ত দু-তিনদিনের চেষ্টা বিফল করে গুরুর আশীর্বাদে হাওড়া বালুরঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট হয়ে গেল আমার, শ্রাবনীদি- অর্ক, আমি ঋষি - সপ্তমীর দিন চারজনে মিলে গুরুবাবার দান যজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে যাব।

12/10/2021 - দুর্গা পূজার মহা সপ্তমী তিথি। গুরুকৃপা ; ট্রেনে করেই আসা যাওয়া, নবদ্বীপে বাবার দান দর্শন করতে যাই ঋষিকে নিয়ে। পূজার মধ্যে শ্রীগুরু দর্শন ভাগ্যের ব্যাপার। তারপর প্রসাদ পাওয়া, নিজে হাতে করে দান দেওয়া, আর উপরী পাওনা খুশী। সারাদিন খুব আনন্দ করে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

18/10/2021 - বাবার কৃপায়, গেলাম নাগের বাজারে। বৃষ্টির মধ্যে যাওয়া- আসা বেহালায়। কিন্তু ছাতা খুলতে হয় নি, ভিজি নি। রাত হলো বাড়ি ফিরতে। অনেক ভক্ত ছিলেন। অনেকদিন পর বাবাকে দেখেছি কাছে বসে, সেটাই পরম প্রাপ্তি।

20 অক্টোবর 2021 … হঠাৎ করেই গুরুর কৃপায় বাবার কাছে।

সিদ্ধা ইডেন লেক ভিউ পার্ক রোডের অসীমদার নতুন ফ্ল্যাটে চলে যাই আবার, বাবাকে দর্শনেই তৃপ্তি । লক্ষ্মীপূজোর দিন। বাবাকে প্রণাম করলাম। গিয়েই বিকেলে প্রসাদ পেলাম। চা সেবাও হলো।

প্রথম কথা বাবার -

"সুখ দুঃখ আমাদের স্ব-উপার্জিত"।

আমার হাঁটুতে ব্যাথা বলতে - বাবা বললেন "পূর্ণিমা অমাবস্যার দিন অন্ন গ্রহণ করতে নেই, করো না" ।
"একাদশীর নামগুলো মুখে উচ্চারণ করাও ভালো.. আটটা মহাদ্বাদশী তিথির নাম স্মরণ করা কল্যাণকর"..
বাবা উপবাস করেন - বছরের ২৪টি একাদশী, দুটো চতুর্দশী - মহা শিবরাত্রি আর অঘোর চতুর্দশী।
প্রতি মাসে দুটি দিন পূর্ণিমা অমাবস্যা অষ্টমীর দিন অন্ন গ্রহণ করেন না...

বাবা - "গুরু কৃপাই আসল"।
বাবা - "যা কিছু করো সব কৃষ্ণে অর্পণ" । গীতা ৯/ ২৭
ভগবান স্বয়ং বলেছেন যে -―
যৎকরোষি যদশ্নাসি যজ্জুহোষি দদাসি যৎ।
যত্তপস্যসি কৌন্তেয় তৎকুরুষ্ব মদর্পণম্।।২৭।।
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! তুমি যা অনুষ্ঠান কর, যা আহার কর, যা হোম কর, যা দান কর এবং যে তপস্যা কর, সেই সমস্তই আমাকে সমর্পণ কর।
বাবা - "মিষ্টি আর তেল শরীরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে" । "আমি তো একটা item / একপদ দিয়ে সমস্ত ভাত খেয়ে নিই" ।
"গুরু তো লাখো, কোটি মেলে কিন্তু সদগুরু মেলে না" - বাবা।
বাবা - "তিনটে মন্ত্র essential, সাধনায়। ভাত বানাতে চালে জলে অগ্নি চাই। ভগবান ঈশ্বর তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছেন, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর। তাই …. যত পারো জপ"।
বাবা - "যার যা প্রকৃতি সেই অনুযায়ী গুরু পায়। Non-veg শিষ্য, non-veg গুরু আর Veg শিষ্য Veg গুরু" ।
"Non-veg না ছাড়তে পারলে কৃষ্ণ কৃপা পেতে দেরী হবে" - বাবা ।
"গুরু কৃপা এমনি এমনি পাওয়া যায় না। গুরু কৃপা করলে রাধারাণী কৃপা করেন, রাধারাণীর কৃপা পেলে কৃষ্ণ কৃপা করেন" ।

অসীমদা - Mentality সাত্ত্বিক হলে সাত্ত্বিক গুরু লাভ হয়। যদি কেউ রাজসিক হয় তাহলে রাজসিক গুরু চাই। লাল পোশাক, রক্ততিলক, রুদ্রাক্ষ, জটা ত্রিশূল দেখে তো বিশ্বাস হবে, তবে গুরু বলে মানবে। তামসিক ভক্তের তামসিক গুরু মেলে।

বাবা - "সংসারে থেকেই সাধনা করা সবচেয়ে সহজ। কৃপা পাওয়া সহজ। সন্ন্যাসীর মতো জীবন maintain করতে পারা যায়" ।

আরও কিছু কথা হয়েছিল, কিন্তু রাত হয়ে যাচ্ছে, বাবার স্নানে যাবার সময় - তাই ভক্তরা বিদায় নিলাম।

21/10/2021

পরের দিন বিকেলে বাবার টানে আবার চলে এলাম সিদ্ধায় ।

"যে দিনে একবারও হরিনাম করে সে-ই বৈষ্ণব" - বাবা।

"রাম ভগবান হয়েও শিবের পূজা করেছে। রাম মা দুর্গার পূজো করেছে" - বাবা বললেন।। ভগবান বলে যে অন্য দেবদেবীর শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস করবো না, তা তো নয়। শক্তি সবার বিশেষ। আমাদের সূর্য্য, দুর্গা, শিব, কৃষ্ণ শ্রী হরির ভজন করা কর্তব্য।

বাবা রোজ সকালে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অবতারের প্রণাম মন্ত্র বলে পূজো করেন। " ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরুপিণে। অবতার বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।"

ভগবান মর্ত্যে নিজে যে এসেছেন,

শ্রীরাম এসেছিলেন, তারপর শ্রীকৃষ্ণ এসেছেন, তারপর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এসেছেন, তারপর এসেছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ - এটাই গুরুবাবা বলেন।

বাবাকে এক ভক্ত জিজ্ঞাসা করল- দেহাত্ম বোধ থেকে কি করে বেরোব, body consciousness থেকে? দেহ চেতনা থেকে বেরোনোর উপায়?

বাবা বললেন - ওসব ভাববার এখন কোন প্রয়োজন নেই। সময় হয় নি তোমার, student life.. . জপ করে যাও। "নাম যার মুখে আছে, তার কিসের চিন্তা ! তোমরা নামের মহিমা বুঝতে পারছ না। নাম/ মন্ত্র জপই সব একদিন বুঝিয়ে দেবে, জানিয়ে পারবে"। "বাকী কোন চিন্তা - প্রশ্ন থাকবে না.. জপ করলেই সব সত্য প্রকাশিত হবে। গুরুর দেওয়া নাম, গুরুর দেওয়া instruction follow করলেই সব পাওয়া যায়" ।।

অন্য জনকে বাবা বলল "একদিন এমন হল, তোমার আগে তোমার সামনে সন্তান চলে গেল, দেহ থাকলো না। এ ঘর থেকে ও ঘরে তো যাওয়া। কিন্তু তার জন্য তোমার চেতনার মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না, নামের মধ্যে এমন তোমার মন ডুবে গেছে, বাইরের বোধ বুদ্ধি লোপ পেয়েছে" ...(তার মা তখন দুবার করে বলে) - 'বাবা আমি বড়, আমি তো আগে যাব' ...

"সেই ছয় বছর বয়স থেকে গুরুর দেওয়া মন্ত্র জপ করছি, আজ পর্যন্ত থামি নি। এই থেকে যে কি শক্তি পাওয়া যায় তা কেউ ভাবতে পারবে না" - গুরুবাবা। সেই মন্ত্রের - মনের উপর নিয়ন্ত্রণ, জীবনে অনুশাসন দরকার। সাত্ত্বিক ভাবনা, সাত্ত্বিক খাদ্য ছাড়া জীবনে অন্য রকম কিছু খাই নি। "আমার জীবনের থেকে শেখো, follow my life"... "Only follow Guru, এটাই আসল শিক্ষা"। বাবা - নিজেকে দেখান। কেন 126 ? শুধু গুরু বলেছেন তাই করবো, পারো এতখানি বিশ্বাস রাখতে ! কোন প্রশ্ন নয়, কোন theory তত্ত্ব নয়। গুরু হোল শুরু থেকে শেষ, কিজন্য কোথায় কি কেন সব কিছুর উত্তর শিবানন্দ বাবা। আমরা সবাই মূঢ় বুদ্ধির মানুষ, সহজে কিছু বুঝি না, একটু feelings এলেও ধরতে পারি না। বারবার তাই hammerise করতে হয়, ধাক্কা মেরে শেখানো। সাধুসঙ্গ না করলে কি শিক্ষা হয় ? মনের ভাবধারা, চিন্তার গতি পাল্টাতে গুরুর সঙ্গ করতেই হবে। বাবাকে না চিনলে তাঁর আচরণ কি করে ধরবো ?

ঐ ভক্ত অনেকক্ষণ পর জিজ্ঞেস করে , মন্ত্র চৈতন্য করতে গেলে কি করব ? তিনটে মন্ত্র - একটা একটা করে কি চৈতন্য জাগে ? অসীমদা বলেন, - বেশি theory তে যেও না। প্রশ্ন করতে গেলে অনুভবে পাবে না। প্রাণ দিয়ে জপ করে যাও। জপাৎ সিদ্ধি।

একজন অন্য ভক্তের প্রশ্ন পরমাত্মা কি বাবা ? আপনি দেখেছেন ?

"আমি পরমাত্মা দেখি নি। দেখতে চাই না"। বাবার প্রথম উত্তর :

পরমাত্মা হলো Beyond our imagination, পিঁপড়ের মতো ছোট্ট আমি, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বুদ্ধি, limited brain আমার, আমি কি ভাবে পরমাত্মা কে বুঝবো। আমার অত জ্ঞান নাই।

বাবা বললেন - এটা খুব কঠিন প্রশ্ন, "Beyond the range of human conception ...

বাবা হাত দিয়ে সামনে মেঝেতে হাত দেখিয়ে বললেন, "এই যে, এখানে মাটিতে রয়েছেন পরমাত্মা.. কেউ দেখতে পাচ্ছে না"। যার চোখ আছে .. সে পেতে পারে।

বাবা নিজে একজন মা মহুয়াদিকে ডেকে আনলেন সামনে। বলো, এদের বোঝাও পরমাত্মা কি ? দিদি তো দ্বিধাবোধ করছে, যাই হোক গুরু আজ্ঞা । "যত জীব জগৎ, বৃক্ষ লতা সবকিছুর sum-total হলো পরমাত্মা। পুরো total energy জগতের প্রত্যেকের মধ্যে আত্মা আছে। আত্মা হচ্ছে infinitesimal part of the whole. Whole কে যদি ভগবান বলতে পারি, পরমাত্মা বলতে পারি। বাবার সামনে কি বলব? বাবা একবার বলেছিলেন 'ঘটি বাটি নারায়ণ। নারায়ণের অংশ শুধু আমারই যে তা নয়" । মানে Non-living, living সবই হচ্ছে নারায়ণ। ভক্তের চোখে নারায়ণ, কৃষ্ণ রাম, ভগবান যাই বলি। জ্ঞানীদের কাছে তিনিই ব্রহ্ম, যোগীদের কাছে তিনি পরমাত্মা। সব একই জিনিস। জানি না ঠিক বললাম কি না! এখানে বাবা আছেন, বলে দিদি ইতস্তত করে থামলেন।

"পরমাত্মা বিশ্বব্যাপী । কোথায় খুঁজবো? কৃষ্ণই আমার জীবনের ধ্রুবতারা" - শিবানন্দ বাবা। "দুধের স্বাদ কেমন তুমি কি তা মুখে বলে বোঝাতে পারবে ?" দুধ যে না খেয়েছে, তাকে কি করে বোঝানো সম্ভব।

বাবার প্রসঙ্গ - নিষ্কাম কর্মযোগ থেকে জ্ঞান হবে ... জ্ঞান হলে ভক্তি হবে, ভক্তি যোগ হলে ঈশ্বর পরমাত্মা লাভ হবে। শুদ্ধ ভক্তিই দুর্লভ বস্তু।

এইসব অন্য কথা আলোচনা হচ্ছে, গুরুবাবার চিন্তা কিন্তু ভক্তদের কিভাবে সেবা দেবেন। বাবা যে মহাপুরুষ, জীবে সেবা - জীবে দয়াই তাঁর লক্ষ্য। মহুয়াদি চলে যাবার কথা হতেই তার ড্রাইভার এর খাওয়ার চিন্তা হলো বাবার। তাকে প্রসাদ দাও, নিয়ে যাও। এতক্ষণ তার কিছু খাওয়া হয় নি।

পরমাত্মা প্রসঙ্গে বাবা "বুঝতে হলে মহাপ্রভুর অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব বুঝতে হবে" বললেন। Inconceivable simultaneous distinction and Non-distinction theory promulgated by Sri Chaitanya Mahapravu.

বাবা খুব শান্তভাবে শেষের দিকে conclusion বললেন, "সাকার চিন্তা করো। Easiest process to attain reality" . পরমাত্মা তো formless - নিরাকার"।

প্রশ্ন করি - "হরে কৃষ্ণ" কতবার জপ করা উচিৎ ? যতবার ইচ্ছা, বলা যায় সারাদিন জপ করা যায়, নাম ছাড়া তো থাকাই যায় না। তবে হ্যাঁ, মহামন্ত্র যদি ভাব নিয়ে, হৃদয় থেকে একবারও উচ্চারণ করা হয় - চোখে জল এসে যায়, সেটাই নামের মাহাত্ম্য।

এরপর বাবাকে প্রণাম করে, মন ভরা আনন্দ সঙ্গে নিয়ে দাদা দিদিদের সাথে বাড়ী ফেরার পালা।

22/10/2021 - বিকেলে চলে আসি বনহুগলী, বাবা চলে যাবেন বলে মনটা খারাপ লাগছে। তবে পরিচিত ভক্তদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আনন্দ পেলাম। সবাই নিজেদের মতো প্রণাম জানাচ্ছে, প্রশ্ন করছে।

বাবার মুখে শুনলাম -

"ঈশ্বরই সবচেয়ে বড় protection" ...

হিন্দী বইয়ের পাতায় দেওয়ার জন্য বাবার ছবি আঁকা হলো। উপস্থিত ভক্তরা আশীর্বাদ বাণী শুনি - "মঙ্গলম্ মঙ্গলম্ ভগবান বিষ্ণু,

মঙ্গলম্ মঙ্গলম্ গরুড়ধ্বজ

মঙ্গলম্ মঙ্গলম্ পুন্ডরীকাক্ষ,

মঙ্গলম মঙ্গলম মঙ্গলায়তনোঃ হরি"।

পরের দিন বাবা বেনারসে ফিরে গেলেন। কলকাতার দিনগুলো যেন পায়ে চাকা লাগিয়ে চলে গেল, বাবা ভক্তদের কৃপা করে গেলেন।

গুরুদেবের দর্শন ও সঙ্গ পাওয়া আমার কাছে অতি দুর্লভ মহার্ঘ্য ধন। কেন যে ছুটে চলে যেতে পারি না। বাবা তুমি তো সব জানো। আশীর্বাদ করো। প্রণাম বাবা।

অরুন্ধতী দাশ

বেহালা।


🙏🏻🙏🏻🙏🏻🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🏻🙏🏻🙏🏻